ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের ৭১ নম্বর চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে ট্রাক্টর পার্কিং এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। ফলে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান চালাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে ৫০ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭৯ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন আটজন শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্কুল মাঠ দীর্ঘদিন ধরে মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টর পার্কিংয়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি পুকুরের পাড় ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। স্থানীয় আব্দুস ছাত্তার ফকিরের মালিকানাধীন ওই পুকুরের কারণে বিদ্যালয় ভবন হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের মাঠের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ায় মাঠে জলাবদ্ধতা ও কাদার সৃষ্টি হয়েছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার ও জুবাইদ রায়হান আবির জানায়, মাঠে ট্রাক্টর ও কাদা থাকায় তারা খেলাধুলা করতে পারে না। এছাড়া শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে ফাটল থাকায় ক্লাস করতে ভয় লাগে। তারা দ্রুত নতুন ভবন ও খেলার উপযোগী মাঠের দাবি জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক, মোহাম্মদ আলী, মো. আব্দুল হেলিম ও আরিফুল ইসলাম বলেন, স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ট্রাক্টরচালক জাহাঙ্গীর ফকির বলেন, স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি নিজে বাড়িতে ট্রাক্টর রাখেন এবং অন্যদেরও এ কাজ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুন নাহার বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ইউনিফর্ম পরিধানের হার শতভাগ। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি খেলাধুলায়ও বিদ্যালয়টি ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম হয়েছে। কিন্তু মাঠে ট্রাক্টর পার্কিং ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ভবনগুলোও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একটি ভবনের অংশ ধসে গেছে এবং বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর স্থাপন এবং মাঠ থেকে ট্রাক্টর অপসারণ জরুরি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠে ট্রাক্টর রাখার বিষয়টি আগে জানানো হয়নি। এখন বিষয়টি জেনেছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে তিনি জানান, সংস্কার ও প্যালিসেডিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সমস্যারও সমাধান করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, “স্কুল মাঠে গাড়ি পার্কিং করা সম্পূর্ণ অনুচিত। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”