‎​ইতালির রাজধানী রোমে পরকীয়া জনিত বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমান পাওয়া যাচ্ছে । সন্দেহের আঙ্গুল মো. শাহাদাত।

‎শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

‎​নিহতরা হলেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরিশা। এই হামলায় দম্পতিটির ১৮ বছর বয়সী ছেলে অয়ন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. শাহাদাত হোসেনকে চিহ্নিত করেছে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

‎শনিবার (২৭ জুন) ইতালিয়ান পুলিশ তার ছবি প্রকাশ করে তাকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

‎ স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের দাবি, আরজুর সঙ্গে শাহাদাতের পূর্ব পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতে বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক বৈঠকে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাহাদাত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় । হত্যাকাণ্ডের পর শাহাদাতকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়ে।

‎​নিহতের কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রায় এক বছর আগে দেশে থাকাকালীন কামালকে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি তখন কোম্পানীগঞ্জ থানাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল।

‎কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম জানান, সে সময় অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছিল।

‎হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত শাহাদাত গা ঢাকা দিয়েছেন। ইতালির পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে স্থানীয়দের সহায়তা চেয়ে রোম পুলিশের মোবাইল ইউনিটে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে।

‎​এই নৃশংস ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালিতে থাকা পুর্ণাঙ্গ কাগজ হয়নি এমন প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত শাহাদাতকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।