পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে শুরু হয়েছে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। শুক্রবার (১০ মহররম) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই শোকযাত্রায় অংশ নেন শিয়া সম্প্রদায়ের হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ।

কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গের শাহাদাত স্মরণে আয়োজিত এ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশের পরনে ছিল কালো পোশাক। অনেকের হাতে ছিল নিশান, আলম, দুলদুল ঘোড়ার প্রতীক, পাঞ্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক। পুরো মিছিলজুড়ে ‘ইয়া হোসাইন, ইয়া হোসাইন’ ধ্বনি এবং বুক চাপড়ে মাতমের মধ্য দিয়ে কারবালার শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করা হয়।

মিছিলে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ রাজধানীতে আসেন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কারবালার আত্মত্যাগ ইসলামে সত্য, ন্যায় ও আদর্শের পক্ষে অবিচল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা মিছিলে অংশ নিয়েছেন।

হোসেনি দালান ইমামবাড়া মহররম মিছিল কমিটির আহ্বায়ক এম এম ফিরোজ হোসেন বলেন, কারবালার শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর শিক্ষা। তিনি সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

ইমামবাড়া থেকে বের হয়ে মিছিলটি বকশীবাজার, উর্দু রোড, লালবাগ, আজিমপুর, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাব ও জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি লেকে পৌঁছাবে। সেখানে প্রতীকী তাজিয়া বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দিনের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।

এ ছাড়া জুমার নামাজের পর হোসেনি দালানে ‘ফাকা শিকানি’ নামে শিরনি বিতরণ এবং সন্ধ্যায় ‘সামে গারিবা’ শীর্ষক বিশেষ মজলিশ অনুষ্ঠিত হবে। কারবালার শোক স্মরণে এ সময় ইমামবাড়ার আলো নিভিয়ে বিশেষ শোকানুষ্ঠান পালন করা হবে।

রাজধানীর বড় কাটারা, মোহাম্মদপুর, পুরানা পল্টন ও মগবাজারসহ প্রায় ৩০টি ছোট-বড় ইমামবাড়াতেও আশুরা উপলক্ষে পৃথক তাজিয়া মিছিল, মজলিশ ও ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।