বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে ব্রাজিল। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

একই সময়ে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে মরক্কোও। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা পেয়েছে ব্রাজিল।

ভিনিসিয়ুসের নেতৃত্বে আক্রমণের ঝড়

ম্যাচের শুরু থেকেই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে ব্রাজিল। এর ফল আসে সপ্তম মিনিটেই। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দ্রুত লিড পাওয়ার পরও আক্রমণের গতি কমায়নি সেলেসাওরা।

২২ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের আরেকটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হলেও ব্রাজিলের আধিপত্যে কোনো ভাটা পড়েনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। দুই গোলের ব্যবধানে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

কুনিয়ার গোল, নেইমারের প্রত্যাবর্তন

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে ব্রাজিল। ৬০ মিনিটে দৃষ্টিনন্দন দলীয় আক্রমণ থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন মাতেউস কুনিয়া। গোলের পর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উৎসব।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে ৭৬ মিনিটে। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার। তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।

নেইমার মাঠে নামার পর ব্রাজিল আরও কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও স্কোরলাইন আর বদলায়নি।

গ্রুপ সেরা ব্রাজিল

তিন ম্যাচ শেষে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। স্কটল্যান্ডের নকআউট ভাগ্য এখন নির্ভর করছে অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর, আর হাইতির বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়েছিল।

মরক্কোর নাটকীয় জয়

আটলান্টায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে মরক্কো। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আশরাফ হাকিমি সমতা ফেরান। পরে আবার হাইতি এগিয়ে গেলে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ইসমায়েল সাইবারি স্কোরলাইন ২-২ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৭৮ মিনিটে রাহিমি এবং ৮৯ মিনিটে ইয়াসিন গোল করে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের তাৎপর্য

গ্রুপ পর্বের শুরুতে প্রত্যাশিত ছন্দ খুঁজে না পাওয়া ব্রাজিল এই ম্যাচে নিজেদের শক্তিমত্তার পূর্ণ পরিচয় দিয়েছে। ভিনিসিয়ুসের ধারাবাহিক গোল, কুনিয়ার কার্যকর উপস্থিতি এবং নেইমারের প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে নকআউট পর্বের আগে বড় বার্তা দিয়েছে সেলেসাওরা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের এই পুনর্জাগরণ এখন প্রতিপক্ষদের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।