দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও জলবায়ু সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার; আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সামনে সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরার কথা জানালেন মাহদী আমিন

বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগের একটি প্রতিযোগিতামূলক ও সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার। চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের মূল বার্তা হলো—‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’।

মঙ্গলবার দালিয়ানের শাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য কেবল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ নয়; বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নকে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা।

সামার দাভোসে বাংলাদেশ: বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আস্থার বার্তা, বললেন মাহদী আমিন

মাহদী আমিন বলেন, সামার দাভোস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী এবং বিনিয়োগকারীরা অংশ নিচ্ছেন। তাদের সামনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বাজার সক্ষমতা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, সম্মেলনের ফাঁকে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনাও উঠে আসে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বলে জানান মাহদী আমিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে নদী ও খাল পুনঃখনন, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন, সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের পক্ষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উৎপাদন ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, বৈশ্বিক সম্মেলনগুলোতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্র তৈরি করে না; একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের সফল নীতি ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করে। তার মতে, এসব যোগাযোগ ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিও উপস্থিত ছিলেন।