যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। লেবার পার্টির অভ্যন্তরে কয়েক দিনের রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনার পর সোমবার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
স্টারমার বলেন, “আমি পদত্যাগ করব।” তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্ট পুনরায় অধিবেশনে বসার আগেই লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হবে এবং তার কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্টারমার বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন কিয়ার স্টারমার। তার নেতৃত্বে দলটি ১৪ বছর পর কনজারভেটিভ পার্টির কাছ থেকে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে। তবে ক্ষমতায় আসার পর একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক ইস্যু এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে তার জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের বড় জয়ের পর স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। এরপর থেকেই তার পদত্যাগের দাবিতে চাপ বাড়তে থাকে।
অবশেষে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ করে দিতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
