২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই নয়, বরং গ্রুপ পর্বের অবস্থান নির্ধারণের নিয়মেও বড় পরিবর্তন এনে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এবার প্রথমবারের মতো গোল ব্যবধানের চেয়ে ‘হেড-টু-হেড’ বা মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী ১২টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে মোট ২৪টি দল সরাসরি নকআউট পর্বে উঠবে। তাদের সঙ্গে যোগ হবে সেরা ৮টি তৃতীয় স্থানধারী দল। ফলে মোট ৩২টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘রাউন্ড অব ৩২’।

Advertisement

ফিফার নতুন নিয়মে গ্রুপ পর্বে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে বিবেচনায় আসবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পারস্পরিক ম্যাচের ফলাফল। অর্থাৎ হেড-টু-হেড পয়েন্ট, গোল ব্যবধান এবং গোলসংখ্যা দিয়ে অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

যদি তাতেও সমতা না ভাঙে, তাহলে দ্বিতীয় ধাপে পুরো গ্রুপের সব ম্যাচের গোল ব্যবধান, মোট গোল এবং ফেয়ার প্লে পয়েন্ট (হলুদ ও লাল কার্ডের হিসাব) বিবেচনা করা হবে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে চূড়ান্ত টাইব্রেকারে। অতীতে এমন পরিস্থিতিতে লটারি বা ড্রয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এবার সেই নিয়ম বাতিল করেছে ফিফা। সমতা অব্যাহত থাকলে সর্বশেষ প্রকাশিত ফিফা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে মাঠের লড়াইয়ে সবার আগে নকআউট নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজক মেক্সিকো। গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে টানা দুই জয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় তারা।

দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে আরেক স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ ‘ডি’-তে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়ে শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে মার্কিনরা।

অন্যদিকে, টুর্নামেন্ট থেকে প্রথম বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির। স্কটল্যান্ড ও ব্রাজিলের কাছে টানা দুই ম্যাচে হেরে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়। একইভাবে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কও অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের কাছে পরাজিত হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেছে।

নতুন নিয়মে এবার গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সরাসরি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফলাফলই নকআউট ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।