সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর এলাকায় ‘বিরাহিমপুর টাউন সাব-পোস্ট অফিস’-এর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে ডাকঘরটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ফিতা কেটে ডাকঘরটির উদ্বোধন করেন সিলেট বিভাগীয় ডাকঘরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (ডিপিএমজি) সুজিত চক্রবর্তী। এ সময় ডাক বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল (কাম পোস্টমাস্টার) মো. আব্দুল কাদের। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পোস্ট অফিস পরিদর্শক (শহর) রুনু চক্রবর্তী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিপিএমজি সুজিত চক্রবর্তী বলেন, মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খাঁনের দাদা খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলী জীবদ্দশায় ডাক বিভাগের জন্য ১৬ শতক জমি দান করেছিলেন। ওই জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বিরাহিমপুর ডাকঘর। পরবর্তীতে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে ২০১৩ সালে এর কার্যক্রম পাশের সিলাম সাব-পোস্ট অফিসে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে ডাকঘরটিকে টাউন সাব-পোস্ট অফিসে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ভবনটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় ডাকসেবা চালু করা হয়েছে।
সুজিত চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয় জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক ও সহজলভ্য ডাকসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও ডাক বিভাগের সেবার মানোন্নয়নে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলী ওয়াকফ এস্টেটের মুতাওয়াল্লি বাবর আলী খাঁন, সমাজসেবক আসাদ উদ্দিন, সিলেট প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার লিপ্টন রঞ্জন রায় এবং মুজিবুর রহমান খান পাঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন স্থানীয় মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা আনোয়ার হোসেন। গীতা পাঠ করেন ডাক বিভাগের কর্মকর্তা চুমকি রানী তালুকদার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট প্রধান ডাকঘরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিরাহিমপুর টাউন সাব-পোস্ট অফিসের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, ডাকঘরটির কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় এলাকার মানুষ আগের তুলনায় সহজে ডাক ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
