ছয় দফা দাবিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং কর্মবিরতি পালন করেছেন। সোমবার সকালে মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার মতো কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ফয়সাল মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশব্যাপী চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি আদায়ে কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।

আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক আসিফ খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত বিভিন্ন পেশাগত ও কাঠামোগত সমস্যার সমাধানের দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। দ্রুত সমাধান না হলে চিকিৎসাসেবা এবং রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মসূচিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক মাকসুদা সুলতানা তিন্নি লিখিত বক্তব্যে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নসংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল।
২. বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমানো।
৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ও ভাতা নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীত করা।
৪. স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক আইন প্রণয়ন।
৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় সাধারণ ক্যাডারের তুলনায় দুই বছর বেশি, অর্থাৎ ৩৪ বছর নির্ধারণ।
৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন-২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন।

কর্মসূচিতে ট্রেইনি চিকিৎসকরাও অংশ নেন এবং উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দাবিগুলো পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।