কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার রাজারামক্ষেত্রী গ্রামে ১০৪ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে একাকী ও সীমিত সহায়তার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন। বয়সজনিত শারীরিক দুর্বলতা, আর্থিক সংকট এবং পর্যাপ্ত পারিবারিক সহায়তার অভাবে তার জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবাদি জমির মাঝখানে একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন হাফিজ উদ্দিন। ঘরটিতে বিদ্যুৎ ও শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। বয়সের কারণে তার চলাফেরাও সীমিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২২ সালের ১১ জুলাই জন্ম নেওয়া হাফিজ উদ্দিন একসময় কৃষিকাজ ও পারিবারিক সম্পদ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। বর্তমানে তিনি সরকারি বয়স্ক ভাতা ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কিছু সুবিধা পেলেও তা তার সব প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, তিনি নিজে রান্না বা দৈনন্দিন অনেক কাজ করতে পারেন না। ফলে অনেক সময় আশপাশের লোকজন খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকেন। তবে এ সহায়তা নিয়মিত নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “হাফিজ চাচা বয়সের কারণে চলাফেরা করতে পারেন না। আমরা প্রতিবেশীরা যতটুকু পারি সহযোগিতা করি। তবে তার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা, একটি নিরাপদ বাসস্থান এবং চলাচলের জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

হাফিজ উদ্দিন বলেন, “বয়সের কারণে এখন আর ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। অন্যের সহায়তায় চলতে হয়। কেউ সাহায্য করলে সুবিধা হয়। একটা হুইলচেয়ার পেলে আমার চলাফেরা সহজ হতো।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষাকালে ঘরটিতে পানি ঢুকে পড়ে এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহায়তা পেলে তার জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত হতে পারে।

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, “বিষয়টি আমি এখন জানতে পেরেছি। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার অবস্থা যাচাই করে সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হুইলচেয়ারের প্রয়োজন হলে সেটিও বিবেচনা করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হাফিজ উদ্দিন কিছুটা স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।