ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির মধ্যেও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে (ইউএইচএফডব্লিউসি) প্রসূতি ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এ সময়ে উপজেলার দুটি কেন্দ্রে মোট ছয়টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে প্রসূতি সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এসব কেন্দ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ জানায়, ঈদের ছুটির সময় পাইথল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চারটি এবং দত্তের বাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দুটি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। মা ও নবজাতক সবাই সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (এএনসি), প্রসব-পরবর্তী সেবা (পিএনসি), নবজাতকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এছাড়া জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ সাধারণ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, সীমিত জনবল ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তারা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মতে, অনেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটরদের (এফডব্লিউভি) জন্য আবাসন সুবিধা না থাকায় জরুরি সেবা পরিচালনায় কিছুটা অসুবিধা হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন হলে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ রাজিব বলেন, “ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবাকে আরও কার্যকর করতে আমরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছি।”
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিছু স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনার সংস্কার ও উন্নয়ন কাজও চলমান রয়েছে।
