বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন পেশাগত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সকাল ৮টা থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়।
কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
একই দিন সকাল ১১টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন। কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে হাসপাতালের মিডলেভেল চিকিৎসকরাও অংশ নেন।
ইন্টার্ন ডক্টরস কাউন্সিলের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ডা. সাকিব হাসান লস্কর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নসংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা অবিলম্বে বাতিল করা।
২. বিএমইউ ও বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা।
৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করা। পাশাপাশি প্রতি মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ নিশ্চিত করা।
৪. কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করা।
৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সাধারণ প্রার্থীদের তুলনায় দুই বছর বেশি রেখে ৩৪ বছর নির্ধারণ করা।
৬. শ্রম আইন-২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং সরকারি পে-স্কেলের আদলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষিত হওয়ায় তারা কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। তবে কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে রোগীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
