ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হলেও বাস্তবে এখানে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিসর সংকুচিত হয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলা ও কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে সুর সম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি—এগুলো জেলার সাংস্কৃতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো সিনেমা হল না থাকা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিকাশে বাধা দেওয়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে “সর্বস্তরের জনগণ” ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনটি “বনলতা এক্সপ্রেস” সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, “যে রাষ্ট্র ধর্ষণ, হত্যা, দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে ব্যর্থ, সেই রাষ্ট্র কেন একটি সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধে এতটা সক্রিয়—এ প্রশ্ন জনগণের।”

তিনি আরও বলেন, “বনলতা এক্সপ্রেস একটি পারিবারিক চলচ্চিত্র। একটি সেন্সরবোর্ড অনুমোদিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু একটি সিনেমার বিষয় নয়, এটি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশ সংকুচিত করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবাধ ও নিরাপদ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, রিফতি আল জাবেদ এবং সামাজিক সংগঠন সোনালী সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সেন্সরবোর্ড অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনে বাধা দেওয়া সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। তারা জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে শহরে “বনলতা এক্সপ্রেস” চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হলেও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধিতার প্রেক্ষিতে তা স্থগিত করা হয়।