দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৩১ জন শিশু। পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২৭৯ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৭৫ জনের শরীরে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ২০৮ জন শিশু। একই সময়ে হাম ও উপসর্গজনিত কারণে মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত এবং ৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী ছিল।
চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া সংক্রমণ পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হয়ে উঠছে। গত দুই মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৪২ হাজার ৩৩৬ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের অপুষ্টি এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলমান সংক্রমণে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৪০৫ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু।
গত ২৬ এপ্রিল একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছিল। ওই দিন হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ৫৬৪ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের পূর্ণ টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।