স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন ঘিরে রক্তপাত ও সহিংসতা বন্ধ করাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, অতীতের সহিংস অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণবিষয়ক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস।
সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবেই সংঘাতপ্রবণ। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাণহানি ও সহিংসতার বহু নজির রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত সহযোগিতা চায়।
তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই রক্তপাতমুখী নির্বাচন চাই না। ভোটাররা যেন নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”
অতীতের তথ্য তুলে ধরে সিইসি জানান, বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিজ্ঞতা কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে জাতীয় নির্বাচন তুলনামূলক শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের অভিজ্ঞতা থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; স্থানীয় সরকারই জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রশাসনিক কাঠামো। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, চেয়ারম্যান কিংবা পৌর প্রতিনিধিরাই সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তাই স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের সহযোগিতা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তা অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় পরিসরে নির্বাচন আয়োজন একটি বিশাল দায়িত্ব। এজন্য কমিশনকে আরও দক্ষ ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন নিজেদের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ কমিশনের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা তৈরির কাজও করছে। কোথায় কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।