মাত্র ৫ হাজার টাকার বিরোধ, এই সামান্য অর্থই কেড়ে নিল এক প্রবীণ ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীর জীবন। নাতির গায়ে হলুদের আয়োজন ঘিরে যখন পরিবারে আনন্দের প্রস্তুতি, তখনই সেই ঘরেই নেমে আসে শোকের নিস্তব্ধতা।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার জগন্নাথবাড়ি গ্রামে বুধবার রাত ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লোকমান হোসেন (৬৫) পাশের পান্নাথবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাঙ্গারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে লোকমান হোসেন তাঁর মেয়েকে জগন্নাথবাড়ি গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের কাছে বিয়ে দেন। বুধবার রাতে সেই মেয়ের বাড়িতেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। শুক্রবার ছিল তার নাতির গায়ে হলুদ, আয়োজনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। শহর থেকে বিয়ের দাওয়াতের কার্ড ছাপিয়ে এনেছিলেন তিনি। পরিবারজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় গভীর শোকে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাফিজ উদ্দিন তার চাচাতো বোন পারুল আক্তারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বুধবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়, পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।

খবর পেয়ে লোকমান হোসেন তার দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে যান। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং বিয়ের পরদিন টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় পারুল আক্তার ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকমান হোসেন ও তার ছেলের ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হন লোকমান হোসেন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলায় তার ছেলে নাজমুল হোসেনও গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে নিহতের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাড়িতে কয়েক দিন পর বিয়ের আনন্দ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কান্নার রোল। স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মুক্তাগাছা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলুস খান পাঠান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন , সংবাদ পেয়েই দ্রুত ঘটনার স্হলে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।