‎সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় ১১ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার সকালেও নির্ধারিত সময়ে খোলা হয়নি পরিষদ কার্যালয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিস সময় পার হলেও পরিষদের মূল ফটক বন্ধ রয়েছে এবং কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এতে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা নিতে সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদে ভিড় করেন এলাকাবাসী। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অফিস খোলা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।

সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রিফাত বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস খোলার কথা। কিন্তু এসে দেখি এখনো ভবন বন্ধ। এতে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”

আরেক ভুক্তভোগী ফরহাদ মিয়া বলেন, “সকাল ৯টা থেকে এসে বসে আছি। এখন প্রায় ১০টা বাজে, তবুও অফিস খোলা হয়নি। আমরা অনেক ভোগান্তিতে আছি। সেবা নিতে এলে অনেক সময় খারাপ ব্যবহারও করা হয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিস খোলা হয়, ফলে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে সরকারি সেবার মান নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এলাকাবাসী দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম নিয়মিত ও সময়মতো পরিচালনার দাবি জানান, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন এবং সহজে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

এ বিষয়ে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফজলুল রহমান বলেন, “আমি জরুরি কাজে উপজেলা অফিসে এসেছি।” তবে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন অফিসে উপস্থিত ছিলেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখান।