দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপ চলমান আর্থিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নীতিসহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এ গ্রুপ বর্তমানে বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে নগদ প্রবাহ ও ঋণ পরিশোধ সক্ষমতায় চাপের মুখে রয়েছে।

গ্রুপটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ শ্রেণীকরণ (খেলাপি ঘোষণা) স্থগিত রাখাসহ মোট সাত দফা নীতিসহায়তা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপেরও আবেদন জানানো হয়।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছরে ডলারের বিনিময় হার প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার ৪–৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বড় আকারের শিল্প বিনিয়োগ ও জ্বালানি–গ্যাস সংযোগ সংকটও উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।

সিটি গ্রুপ জানায়, তাদের অধীনে ২৪টি কোম্পানির ঋণ ৩৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। খাদ্য নিরাপত্তা, মূল্য স্থিতিশীলতা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখার স্বার্থে এই নীতিসহায়তা প্রয়োজন বলে তারা মনে করে।

গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান বলেন, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে সরকারের সহায়তা পেলে ব্যবসা পুনরায় স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে এবং ব্যাংক খাতসহ অর্থনীতি উপকৃত হবে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ভোগ্যপণ্য বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ভোজ্যতেল, চিনি, আটা-ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় অংশ সরবরাহের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীলতায় অবদান রাখছে সিটি গ্রুপ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর আর্থিক চাপ বাড়লে তা সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি।