‎তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজপথের লড়াকু ছাত্রনেতা সোহেল রানা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক এই সফল নেতার নতুন এই দায়িত্ব প্রাপ্তিতে তার নিজ এলাকা ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

‎সোহেল রানা ১৯৯০ সালে নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ (ভেলানগর) গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম অলিউল্যাহ মিয়া ছিলেন একজন কৃষক এবং মাতা মরহুমা আয়েশা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। শিক্ষাজীবনে তিনি ২০০৬ সালে নেয়াজপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০০৮ সালে সোনাপুর কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১৩ সালে নোয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বিবিএস সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ব্যবস্থাপনা বিভাগে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

‎সোহেল রানার রাজনীতির হাতেখড়ি তৃণমূল পর্যায় থেকে। ওয়ার্ড ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক এবং নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা মহানগর উত্তরে সক্রিয় হন।

‎রাজনৈতিক জীবনে সোহেল রানা অসংখ্যবার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে দুটি হত্যা মামলা ও বিষ্ফোরণ মামলাসহ একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হতে হয়েছে। দুই দফায় কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে; এমনকি কারাগারে থেকেই তিনি তার এমবিএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

‎​২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন, যার ফলে দীর্ঘ তিন মাস তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হলে নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গত ২৮ অক্টোবর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার রাজপথে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

‎বর্তমানে সোহেল রানা আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ- সভাপতি এবং বাফুফে অনুমোদিত ফ্রিডম ফাইটার আব্দুস সালাম স্পোর্টিং ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

‎​ত্যাগী এই নেতার মূল্যায়নে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের জোয়ার বইছে। সাধারণ কর্মীদের মতে, তৃণমূল থেকে উঠে আসা সোহেল রানার এই প্রাপ্তি মূলত ‘গণঅভ্যুত্থানের শক্তির বিজয়’। তার নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল আরও বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করছেন।