যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক ভাষণে সতর্ক করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চুক্তিতে না এলে ইরানকে “প্রস্তর যুগে” ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ভাষা মূলত ব্যাপক বিমান হামলা বা তথাকথিত “কার্পেট বোম্বিং”-এর ইঙ্গিত বহন করে। সামরিক কৌশল হিসেবে এটি এমন এক ধরনের আক্রমণ, যেখানে বিস্তৃত এলাকায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করে অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা হলে একটি দেশের হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র এবং আবাসিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা কার্যত আধুনিক জীবনযাত্রার অবকাঠামোকে অচল করে দেয়।
প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া” ধরনের বক্তব্যের শিকড় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কার্টিস লিমে জাপানের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বোমাবর্ষণের সময় এই ধারণার ব্যবহার করেছিলেন।
পরবর্তীতে কোরীয় যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করেছে বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে ভিয়েতনামে পরিচালিত বিমান হামলা এবং উত্তর কোরিয়ায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও এই প্রেক্ষাপটে আলোচিত হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কঠোর বক্তব্য কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইন অনুসারে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ফলে এ ধরনের সামরিক ইঙ্গিত কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
