ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে মজুত রাখা জ্বালানি তেল থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জ্বালানি মজুতকারীকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (২ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার দরিরামপুর এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার সিঁড়ির নিচে থাকা কক্ষে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

রোববার (৩ মে) বিকেলে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনের ভাড়াটিয়া মো. উমর ফারুক (৫১) বাসার ভেতরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে রেখেছিলেন। শনিবার রাতে সেখানে রাখা একটি পাত্রে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী উমর ফারুককে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে রাত ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় সিঁড়ির ঘরে কন্টেইনারে রাখা আরও ৭০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে উমর ফারুক অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত লাইসেন্স ছাড়া জ্বালানি তেল সংরক্ষণের দায়ে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে খোলা পাত্রে জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে পাশের ইভা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. আফজালকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, “আবাসিক এলাকায় এ ধরনের দাহ্য পদার্থ মজুত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, উমর ফারুক পাশের একটি ফিলিং স্টেশনে কর্মরত ছিলেন এবং পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাসায় তেল মজুত করতেন।