ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০/০৪/২০২৬) দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দম্পতিকে দুই মাস বয়সী সন্তানসহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. মো. নোমান ও তার স্ত্রী কিমিয়া সাদাত তোফা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের আয়েশা বেগম নামে এক কিশোরী প্রায় ৯ মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার উত্তর মৌড়াইল এলাকায় ওই দম্পতির বাসায় অবস্থান করছিল। এ সময় পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তাকে গৃহকর্মে নিয়োজিত রাখা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে আয়েশার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে জানানো হয়, আয়েশা নাকি চুরি করে পালিয়ে গেছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে।

এরপর পুলিশের অভিযানে বুধবার ওই দম্পতির বাসার পাশের এলাকা থেকে আয়েশাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করা হতো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বর্তমানে আয়েশা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সে জানায়, তাকে নিয়মিত গৃহকর্মে বাধ্য করা হতো এবং সামান্য কারণে মারধর করা হতো।

তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. নোমান। তিনি দাবি করেন, আয়েশা তাদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নয়, সন্তানদের দেখাশোনার জন্য ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তিনি বিদেশে প্রশিক্ষণে থাকাকালে আয়েশা বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তবে অভিযুক্ত দম্পতির পক্ষ থেকে শিশুটির বিরুদ্ধে চুরির কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
আদালত সূত্র জানায়, প্রাথমিক শুনানি শেষে দম্পতির জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।