তেহরান/ইসলামাবাদ, ২৭ এপ্রিল: ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা নিরসনে তিন স্তরের একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপ এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এগোতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান-এর মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র-এর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবের প্রথম ধাপে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং ইরান ও লেবানন-এ ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসী হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। তেহরানের মতে, এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়।
দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-র ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা। বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোও এই ধাপের লক্ষ্য।
তৃতীয় ধাপে, প্রথম দুই স্তরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়ালেস বলেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনার অংশ। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, এমন কোনো চুক্তিই গ্রহণযোগ্য হবে না, যা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেয়।
এর আগে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনাও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর দ্বিতীয় দফা সংলাপের আহ্বান এলেও ইরান সরাসরি আলোচনায় অনাগ্রহ দেখায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সাম্প্রতিক পাকিস্তান ও ওমান সফরের পর রাশিয়া গেছেন, যা নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, তেহরানের এই তিন ধাপের প্রস্তাব সরাসরি যুদ্ধবিরতির বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি রুট এবং পরমাণু ইস্যুকে একই কাঠামোয় আনার একটি কৌশলগত উদ্যোগ। এখন নজর ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
