দেশের ভোজ্যতেল বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার সরকারি দাবি সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে এবং খোলা তেলের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সীমিত কয়েকটি বড় কোম্পানির প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যদিও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাত আন্তর্জাতিক বাজার ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছে।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা গেছে, বোতলজাত সয়াবিন তেল অনেক দোকানেই অনুপস্থিত বা সীমিত পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে খোলা তেলের দিকে ঝুঁকছেন, যার দাম নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি। বাজার পর্যবেক্ষণে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ২০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুত রয়েছে এবং আরও আমদানিকৃত তেল সরবরাহ লাইনে রয়েছে। তবে মিলপর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু ব্যবসায়ী দাবি করছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না হওয়ায় বাজারে ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে।
অন্যদিকে, তেল পরিশোধন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি, ডলার বিনিময় হার এবং জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে তারা মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। শিল্পখাতের সংগঠন থেকে বোতলজাত ও খোলা তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা এখনো সরকারের অনুমোদন পায়নি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবুও মাঠপর্যায়ে সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট এক প্রতিনিধি বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা কম থাকায় সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বেশি, যা মূল্য ও সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
একজন ব্যবসায়ী জানান, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে, ফলে খুচরা বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে।”
সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম বাড়ায় সামগ্রিক খাদ্য ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হচ্ছে।
