মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত নিজেদের সব নাগরিককে দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে নতুন করে কাউকে ইরান ভ্রমণ না করার জন্যও কঠোর সতর্কতা জারি করেছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সীমিত আকারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকায় সেগুলো ব্যবহার করে দ্রুত ইরান ত্যাগ করতে নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আকাশসীমায় বিধিনিষেধ ও বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় বিকল্প হিসেবে স্থলপথ ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে আকাশপথ বা স্থলপথ—কোনোভাবেই ইরান ভ্রমণ না করতে ভারতীয়দের জোরালোভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে নিরাপদে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মহল থেকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সতর্কতা ও অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আকাশসীমায় বিধিনিষেধ, বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যাহত হওয়া এবং কূটনৈতিক সতর্কতা জারির মতো পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতির গুরুতরতা নির্দেশ করছে।

জ্বালানি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।