শুধু শিক্ষাগত সনদ অর্জন নয়, দক্ষতা, জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল একটি সনদ অর্জন করা নয়; বরং অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারাই শিক্ষার সার্থকতা। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে সনদনির্ভরতা থেকে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে, যাতে শিক্ষাজীবন শেষে তরুণদের বেকারত্বের মুখে পড়তে না হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠি সরকারি কলেজের মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৪৫০ জন নবীন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, জ্ঞান অর্জনের পরিধি বাড়াতে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়তে হবে। পৃথিবীর নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে এবং চিন্তার জগৎ প্রসারিত করতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশও জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদেরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্যদূষণের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং নানা রোগের বিস্তার ঘটছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন নিজেদের ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্ন ঝালকাঠি গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, বড়দের শ্রদ্ধা ও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। নিজেদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
কলেজের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কলেজের জন্য একটি স্কুলবাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি ইনডোর গেমসের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, তোমরা আমাদের বয়সে পৌঁছানোর আগেই অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তোমাদের হাত ধরেই ঝালকাঠি আরও সাফল্য অর্জন করবে। তোমাদের মেধা, জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে।’
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. বশির গাজী, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইলিয়াস বেপারী এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) স্নেহলতা রায়।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।