বিরোধী দলীয় নেতাদের অসহিষ্ণু, উস্কানিমূলক ও লাগামহীন বক্তব্য, কর্মকাণ্ড রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন “বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চায়, সংঘাত নয়, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক চায়, উসকানি নয়। জনগণের অধিকার, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে আমরা আপসহীন। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস—এই নীতির ভিত্তিতেই সকল রাজনৈতিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর শহরের জয়িতা মহিলা মার্কেট প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “তাদের লাগামহীন উসকানিমূলক বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবস্থান থেকে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, তারা ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গভীর কোনো চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুই পক্ষের এক হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করার পর থেকেই তাদের বক্তব্যের ভাষা ও রাজনৈতিক আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। জনগণের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অবৈধ বলা, নির্বাচনকে অসাংবিধানিক আখ্যা দেওয়া এবং জনগণের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা সেই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে।”
তিনি বলেন,“আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে জনগণের কল্যাণে, উন্নয়নের কর্মসূচিতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। কিন্তু জনগণের ভোটের রায়কে অস্বীকার করে দেশকে সংঘাত ও অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে গণতন্ত্রকেই ধ্বংস করার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।”
বিএনপির এই নেতা বলেন, “বিএনপি প্রতিহিংসা কিংবা বিভাজনের রাজনীতি করে না। বিএনপি জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, আইনের শাসন ও জাতীয় ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু বিরোধিতার নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ, উসকানি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় নয়।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও যুবদল জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। কোনো রাজনৈতিক উসকানি বা ষড়যন্ত্র জনগণের কল্যাণে সরকারের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। জনগণ ৫ বছরের জন্য তারেক রহমান ও বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনার জন্য। অথচ জামায়াত -এনসিপি জোটের নেতারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চায়।
তিনি বলেন, “তাদের জেনে রাখা ভালো, তারেক রহমান ও বিএনপি কচুপাতার ওপর পানি নয় যে, টোকা দিলেই গড়িয়ে পড়বে। বিএনপি কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক শক্তি নয়। বিএনপির শিকড় এ দেশের মাটি ও মানুষের গভীরে প্রোথিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিকশিত এই দলকে হুমকি, অপপ্রচার কিংবা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দিয়ে দুর্বল করা যাবে না।”
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে ভোটবিহীন সরকারের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করাতে চান, তাদের কাছে প্রশ্ন—নির্বাচিত , বৈধ এবং অনির্বাচিত , অবৈধ সরকারের মধ্যে পার্থক্য কি তারা বোঝেন না ?নাকি জেনেশুনেই জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন? রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা গণতান্ত্রিক রাজনীতি হতে পারে না। সরকারকে সমালোচনা করুন, ভুলত্রুটি তুলে ধরুন, বিকল্প কর্মসূচি দিন। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না।”
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি তারিকুল ইসলাম চঞ্চল এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মালেক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, যুবদল নেতা নাজমুল হুদা,আসাদুজ্জামান আসিফ, আক্তার হোসেন,কামরুজ্জামান কামরুল,আবদুল মালেক সোহান, এম বি রায়হান, আবু নাসের, ফয়সাল আহমেদ রনি, আবু কাউসার,এনামুল হাসান লাভিন বক্তব্য রাখেন।
