তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ হত্যা, লুটপাট করে পালিয়ে গেছে। তারা আর ফিরে আসবে না। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শ্লোগান ধরে বলেন, ‘আপা আপা কইয়েন না আপা ফিরে আসবে না ।
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নাশকতা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে পরিস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা এবং বিরোধীদলের অপপ্রচার
বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি বুধবার বিকেলে হালুয়াঘাটে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার এর সঞ্চালনায় হালুয়াঘাট পৌর শহরের উত্তর বাজার ধান মহালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
বক্তব্য রাখেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহর,তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল,সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আওয়ামী লীগের নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জামায়াত -এনসিপি জোটের কোনো বক্তব্য বা প্রতিবাদ কর্মসূচি নেই কেন? – এই প্রশ্ন উত্থাপন করে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান প্রিন্স বলেছেন, বিরোধী দলের উচিত জনগণের কাছে এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া। জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে, গণতান্ত্রের বিরুদ্ধে একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তির রাখী বন্ধনের পূনরাবৃত্তি ঘটছে কি না।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আজ ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে এ প্রশ্ন তুলে বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের শান্তি, জননিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রশ্নে কোনো দেশপ্রেমিক কোনো রাজনৈতিক দলের নীরব থাকার সুযোগ নেই। যারা নিজেদের বিরোধী শক্তি হিসেবে দাবি করেন, তাদেরও সন্ত্রাস, নাশকতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে যখন বিএনপি রাজপথে প্রতিবাদ করছে, তখন অন্য বিরোধী দলগুলোর নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। জনগণ জানতে চায়—নাশকতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কী? তারা কি প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করবে, নাকি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে নীরব থাকবে?”
তিনি আরো বলেন,“আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—বাংলাদেশের রাজনীতি হবে জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের রাজনীতি। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে কেউ রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে।”
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন,জামায়াত-এনসিপির নেতারাদের আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারকে এক দফার হুমকি দেয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মসূচি ও লাগামহীন বক্তব্যের ফলে গণ অভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ লাভবান হচ্ছে এবং গণ অভ্যুত্থান ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ফসল নস্যাত করতে নাশকতার সাহস পাচ্ছে।
তিনি বলেন,বিরোধিতা করার অধিকার সবার আছে; কিন্তু বিরোধিতার নামে এমন অপরিণামদর্শী রাজনীতি করা উচিত নয়, যার সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী তৎপরতা বিস্তারের অবকাশ তৈরি হয়। যে দলই নাশকতা করবে, তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে; যে পক্ষই সহিংসতার সুযোগ তৈরি করবে, তাকেও রাজনৈতিকভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
সমাবেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, একবার আপা আপনাদের বিপদে ফেলে পালিয়ে গেছে, এবার আবার বিপদে ফেলতে আপনাদের নাশকতার নির্দেশ দিচ্ছেন। এবার জনগণ আপনাদের আর ছাড়বে না ।’ তিনি জনগণের প্রতি আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নাশকতাকারীদের আর ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের গণমুখী কার্যক্রম নস্যাত করতে পারবে না। জনগণকে সাথে নিয়ে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাত দেয়া হবে।
সমাবেশের পর একটি প্রতিবাদ মিছিল সমাবেশস্থল থেকে বের হয়ে হালুয়াঘাট পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে হালুয়াঘাট শহীদ স্মৃতি সৌধে যেয়ে শেষ হয়। সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ইয়াসির খান চৌধুরী, অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ জেলা, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মিছিলে অংশ নেন।