ডেঙ্গু প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শহরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসন ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে শহরের চাঁদনী ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মল্লিক মইন উদ্দিন সুহেলসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য, স্কাউট দলের নেতৃবৃন্দ এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
অভিযানকালে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করার পাশাপাশি নদীর পাড়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে চাঁদনী ঘাট ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। নিজেদের অসচেতনতার কারণে শুধু অন্যরা নয়, নিজেরাও ক্ষতির শিকার হতে পারেন।
তিনি বলেন, চাঁদনী ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার বিষয়টি নজরে এসেছে। দোকানদার, বাসাবাড়ির বাসিন্দা কিংবা নৌযানে চলাচলকারী—সবারই দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
জেলা প্রশাসক প্রত্যেক দোকানের সামনে ডাস্টবিন রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডাস্টবিন চুরি বা সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকলে সেগুলো নিরাপদভাবে স্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনীয় স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেললে অন্যদেরও সচেতনভাবে বাধা দিতে হবে। ময়লা-আবর্জনা, থুথু কিংবা পানের পিক যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেললে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন পৌরসভা, একটি পরিচ্ছন্ন সুনামগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই। এ কাজে সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ নয়, নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে শহরকে পরিচ্ছন্ন ও রোগমুক্ত রাখতে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।