শেরপুরের নকলা উপজেলার হুজুরীকান্দা গ্রামে দুটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের পর আবারও আলোচনায় এসেছে দীর্ঘদিন ধরে চালু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা নকলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন। আগুন নিয়ন্ত্রণে পাশের উপজেলা ও জেলা সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট পৌঁছানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন ‘থটস অব বিল্লাল’ নামে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিল্লাল হোসেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিল্লাল লেখেন, “সরকারি অনুমতি পেলে, নকলা থানার জন্য একটা ফায়ার সার্ভিস করে দিতাম।” তাঁর পোস্টে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে দেরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে নকলায় দ্রুত একটি স্টেশন চালুর দাবি জানানো হয়। তাঁর পোস্টটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই হাজারো প্রতিক্রিয়া, মন্তব্য ও শেয়ার হয়।

বিল্লাল তাঁর পোস্টে দাবি করেন, নকলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরের হুজুরীকান্দা গ্রামে আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর দূরবর্তী ফায়ার স্টেশনের ইউনিট পৌঁছায়। নকলা থেকে ইউনিট গেলে কম সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তাঁর উল্লেখ করা সম্ভাব্য সাত মিনিটের যাত্রাসময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আগুনে পুড়ল দুটি বসতঘর

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে হুজুরীকান্দা গ্রামের একটি দুচালা ঘরের বৈদ্যুতিক মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের আরেকটি ঘরেও আগুন লাগে।

স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। পরে শেরপুর সদর ও নালিতাবাড়ী থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে দুটি ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালের বড় অংশ পুড়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে; এই অর্থের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন নয়।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষায় নকলা ফায়ার সার্ভিস

নকলা উপজেলায় নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের সময় পাশের উপজেলা বা জেলা সদর থেকে ইউনিট আসার ওপর নির্ভর করতে হয়। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নকলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল প্রায় দুই দশক আগে। জমি-সংক্রান্ত মামলার কারণে ২০১২ সালে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন পর্যন্ত ভবনের একটি বড় অংশ নির্মাণ হয়েছিল।

তবে পরিস্থিতিতে সম্প্রতি পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ১৬ আগস্ট ২০২৬ সরকারের পক্ষে আদালতের রায় আসার পর দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে বলে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. জানে আলম জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং কাজ শেষ হলে নকলাবাসীকে ফায়ার সার্ভিসের সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ফলে বর্তমান বাস্তবতায় নকলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু হয়নি, বরং দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর সেটি চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা সেই অপেক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।

দ্রুত স্টেশন চালুর দাবি

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাছাকাছি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ থাকে। নকলা থেকে দূরের স্টেশনগুলোকে নির্ভর করতে হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে পৌঁছাতে সময় লাগছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

নকলা উপজেলা প্রশাসনের সরকারি ওয়েবসাইটেও জরুরি সেবার তালিকায় ফায়ার সার্ভিসের জাতীয় হটলাইন ১০২ উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটার পর নকলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করে কার্যক্রম চালু করা হবে। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্যোগে নকলাবাসী দ্রুত জরুরি সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।