বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন,ডিসেম্বরে পালাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পাশাপাশি বিরোধী দলও ডিসেম্বরে এক দফার আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। জনমনে সন্দেহ ডিসেম্বরকে ঘিরে ৮৬,৯৬ এর রাখিবন্ধনের পূনরাবৃত্তি ২৬ এও হলো কী না !
রবিবার বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের ঘোনাপাড়ায় কংশ নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত গ্রামবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মতবিনিময় সভার আগে তিনি নদী ভাঙন স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন ।
সভায় এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপি সরকার যেখানে জনকল্যাণে নিয়োজিত, দুঃখজনক হলেও সত্য বিরোধী দল সেখানে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করছে। তারা ছয় মাস বয়সী নির্বাচিত সরকারকে এক দফার হুমকি দিয়ে গণ বিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
জ্বালানি সমস্যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অপচয় করে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি জ্বালানি সমস্যা তীব্র এবং জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করছে। লংমার্চ কর্মসূচিতে এক দফার হুমকি, উস্কানিমূলক শ্লোগান-বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের ছয় মাসের সরকার যখন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশ পুনর্গঠন করছে, তখন ডিসেম্বরে সরকার পতনের হুমকি ষড়যন্ত্র ও দূরভিসন্ধির বহিঃপ্রকাশ। ছয় মাস বয়সী সরকারকে ছয় দফা,এক বছরের মাথায় এক দফার আন্দোলনের হুমকিদাতাদের জেনে রাখা ভালো, বিএনপি রাজপথ কাউকে ইজারা দেয়নি। রাজপথ বিএনপির অচেনা নয়।
তিনি বলেন, বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে কিংবা এক দফার আলটিমেটাম দিয়ে কোনো লাভ হবে না। মনে রাখবেন—বিএনপি ভেসে আসা কোনো দল নয়; বিএনপি এ দেশের জনগণের দল। জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে বিএনপি আবারও রাজপথে নামবে, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে।”
তিনি বলেন,ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে, তারা জন প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করলে জনগণই ভোটের মাধ্যমে তার পরিবর্তন করবে। রাজপথে হুমকি দিয়ে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কিংবা ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতনের আলটিমেটাম দিয়ে জনগণের রায় কেড়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “কংশ নদীর ভাঙনে শাকুয়াই ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ছিল। নদীভাঙনে রাস্তা, বসতভিটা, ফসলি জমি ও মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছিল। স্থানীয় মানুষের এই দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে আমি পানি সম্পদ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করি। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁদের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড শাকুয়াই এলাকায় নদীর তীর রক্ষায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।”
তিনি বলেন, “জনগণের সমস্যা সমাধানই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আমরা শুধু ক্ষমতার কথা বলি না, মানুষের কথা বলি; শুধু স্লোগান দিই না, মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করি। কংশ নদীর ভাঙন রোধের এই কাজ তারই প্রমাণ। এই ইউনিয়নে রাস্তা, ব্রীজ, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন , ক্লিনিকসহ জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আরও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন,জনগণের পাশে থেকে, জনগণের সমস্যা সমাধান করেই বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এগিয়ে যাবে।”
ঘোনাপাড়ায় কংশ নদীর পাড়ে শাকুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার বিএনপি নেতা আবুল হাসেম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, শাকুয়াই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইউনুস আলী খান , উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক স্বদেশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, আমতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান, বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন,সায়েদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন, স্থানীয় মুরব্বি আব্দুল হেকিম, যুবক জুয়েল রানা, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবদল নেতা আবু নাসের,উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম আর আল আমিন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব তাজবীর হোসেন অন্তর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।