দেশের উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি ক্রস-বর্ডার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কুয়েট ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এবং চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি রূপান্তরের ২৩ বছর পূর্তি উদযাপন করছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিসরও বাড়ানো হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে দেশের চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই ধারাবাহিকতায় কুয়েটসহ চারটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নত করতে গবেষণা ও অ্যালামনাই কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ মেধার ঘাটতি নয়; বরং যথাযথ প্রচেষ্টা ও ব্যবস্থাপনার সঠিক প্রয়োগের অভাব।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের, পরিবার, দেশ ও জাতির জন্য অবদান রাখতে হলে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণায় মনোনিবেশ করে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার সময়োপযোগী, আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত হতে হবে। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
কুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী প্রীতি সমাবেশ, আনন্দ র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।