যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের।
তবে নির্ধারিত এই সংলাপ আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে লেবানন পরিস্থিতি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছিল, চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু ইসরায়েল সেই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে এবং পরবর্তীতে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। ওই হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
এ পরিস্থিতিতে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো অর্থবহ আলোচনায় বসবে না। এই শর্ত এখনো পূরণ না হওয়ায় সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অচলাবস্থার কারণে ইসলামাবাদে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করলেও, লেবানন ইস্যুতে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকলে তা অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
