দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে নতুন ব্যবস্থায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তেহরান, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রণালিটি এখন কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি জাহাজকে আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা ও চলাচলবিধি মেনে চলতে হবে। এই পুরো ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করলেও নতুন সীমাবদ্ধতার ফলে চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরান জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সমুদ্রপথে সম্ভাব্য মাইনের উপস্থিতির কারণে নতুন রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। জাহাজগুলোকে প্রচলিত ওমান উপকূলীয় পথ এড়িয়ে ইরানের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রণালি ব্যবহারের জন্য টোল আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফি এবং প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনে নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করা হতে পারে। এই অর্থ সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে প্রণালি পুনরায় খোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও, ইরান স্পষ্ট করেছে—নিকট ভবিষ্যতে পরিস্থিতি যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
