দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন কমিশনের নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৬(১) অনুযায়ী বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ধারা ৫(১) অনুযায়ী বিচারপতি আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান হবে। আর দুই কমিশনারের বেতন, ভাতা ও পদমর্যাদা হবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান।
দীর্ঘ পাঁচ মাস পর পূর্ণ হলো কমিশন
নতুন কমিশন নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের অচলাবস্থার অবসান হলো। গত ৩ মার্চ থেকে দুদকের কমিশন শূন্য ছিল। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করলে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার।
নতুন কমিশন গঠনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কয়েক দফা বৈঠক ও যাচাই-বাছাইয়ের পর কমিটি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে।
কমিশন না থাকায় এতদিন দুর্নীতির অভিযোগে নতুন মামলা অনুমোদন, তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং অভিযুক্তদের সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যত আটকে ছিল।
দুদক সূত্র জানায়, মামলা করার সুপারিশ করে শত শত অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রস্তুত হলেও কমিশনের অনুমোদন না থাকায় সেগুলোর ভিত্তিতে মামলা করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে তদন্ত শেষ হওয়া অনেক মামলার প্রতিবেদনও আদালতে অভিযোগপত্র হিসেবে দাখিল করা যায়নি।
দীর্ঘদিন কমিশন না থাকায় দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পদ সরিয়ে নেওয়া বা হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগও জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ায় দুদকের স্থবির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং আটকে থাকা অনুসন্ধান, মামলা ও তদন্তে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।