চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দেড় মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরির তথ্য পাওয়া গেছে। রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের এই দৌরাত্ম্যে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। এর ওপর নতুন ট্রান্সফরমার বসাতে খরচের অর্ধেক টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই দিবাগত রাতে উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নাউরি ও ফৈলাকান্দি এলাকায় এক রাতেই চারটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে ছেংগারচর পৌর এলাকার দেওয়ানজীকান্দি ও জীবগাঁও এলাকায় আরও দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের বাইতুননুর জামে মসজিদের পাশের খুঁটি এবং জীবগাঁও গ্রামের ইব্রাহীম আখনের বাড়ির সামনে থেকে এই ট্রান্সফরমার দুটি উধাও হয়ে যায়। এতে মসজিদসহ অর্ধশতাধিক আবাসিক গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।

​সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা মূল্যবান তামার কয়েল ও ক্যাবলই এই চক্রের মূল টার্গেট। চুরি হওয়া যন্ত্রাংশ ভেঙে তামার তার ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

​চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মতলব উত্তর জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. নাঈম জানান, চোরেরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং লাইন চালু থাকা অবস্থাতেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাচ্ছে।

​জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, চলতি ক্যালেন্ডার বছরে এ পর্যন্ত ২৪টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। যার মধ্যে কেবল জুলাই মাসে ১৩টি এবং আগস্টে ৬টি চুরি হয়েছে। তার মতে, তীব্র লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিচ্ছে চোরেরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকরা মনে করেন সাধারণ লোডশেডিং চলছে, আর এই সুযোগেই ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

​উল্লেখ্য, মতলব উত্তরে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও গ্রিড থেকে কখনো মিলছে ৮ থেকে ১৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত। চাহিদার তুলনায় এই কম সরবরাহের কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ অফিস।

​নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুনটির মূল্যের অর্ধেক টাকা গ্রাহকদের বহন করতে হয়। আর পুনরাবৃত্তি হলে অনেক ক্ষেত্রে পুরো মূল্যই দিতে হয়। ১০ কেভিএ ট্রান্সফরমার ৮৩ হাজার, ১৫ কেভিএ ১ লাখ এবং ২৫ কেভিএ ট্রান্সফরমার প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা মূল্যের হওয়ায় হতদরিদ্র গ্রাহকদের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

​মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি রোধে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে রাতের টহল জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এই অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।