দেশে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান সংক্রমণের ধারা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৪ হাজার ৮৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ৭১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।
জুন থেকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন এবং আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে ৯ হাজার ৫৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ শুধু জুলাই ও আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ৭৪৪ জন।
এবার ডেঙ্গুর বিস্তার শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নেই। চলতি বছরের মোট আক্রান্তদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার রোগী ১৭ হাজার ৯৬৭ জন, বিপরীতে সিটি করপোরেশন এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৫১৫ জন।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামেও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে চট্টগ্রাম নগরের ১৮টি ওয়ার্ডের ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৯৯টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। পরীক্ষা করা ৩৪৫টি পানির পাত্রের মধ্যে ১১৪টিতেও লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে। এর মধ্যে আটটি ওয়ার্ডকে উচ্চঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশারের মতে, বর্ষায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বাড়ে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি থাকে। আগস্টে সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি বছরের ৭১ মৃত্যুর মধ্যে ৪৩ জন নারী ও ২৮ জন পুরুষ। সবচেয়ে বেশি ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে। ১৫ বছর বা এর কম বয়সী অন্তত নয়জনও মারা গেছে। শুধু জুলাইয়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের, আর জুনে ১৩ জনের।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরব্যথা, বমি, পেটে ব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় সংক্রমণ এখনো কম থাকলেও জেলায় জেলায় চিকিৎসা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।