জামালপুরের ইসলামপুরে একটি এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্রান্টের প্রায় ৬ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সুপারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগটির সত্যতা এখনো প্রশাসনিক তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগকারী হলেন উপজেলার চর পুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ার চর আশরাফুল উলূম হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও আব্দুল মালেক মন্ডল এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টার। তিনি গত ১০ আগস্ট ইসলামপুরের ইউএনও ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ২২ জন শিক্ষার্থীর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্টের অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব সুপার আনোয়ার হোসেনের ওপর থাকায় তিনি সভাপতির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তার স্বাক্ষর ব্যবহার করে গত ২১ মাসের তিনটি বিলের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।
সভাপতির দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সুপারের কাছে স্বাক্ষর ব্যবহারের কারণ জানতে চান। জবাবে সুপার দ্রুত বিল উত্তোলনের প্রয়োজন ছিল এবং সভাপতিকে না পেয়ে তার স্বাক্ষর দিয়েছেন বলে জানান। তবে উত্তোলন করা অর্থের হিসাব চাওয়া হলে সুপার এড়িয়ে যান—এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় তিনি বিল উত্তোলন করেছেন। তার দাবি, সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই তিনি তিনটি বিলে স্বাক্ষর দিয়েছেন।
ইসলামপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রহুল আমীন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও কার্যালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেবেন।
ইসলামপুরের ইউএনও শাহ্ মো. জোবায়ের বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি এতিমখানার শিশুদের প্রতিপালন, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য সরকার ক্যাপিটেশন গ্রান্ট দিয়ে থাকে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট এতিমখানার বিল যাচাই-বাছাইয়ের পর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা সম্পাদকের অনুকূলে অর্থ হস্তান্তরের বিধান রয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব রয়েছে। অধিদপ্তর বর্তমানে ২০২৪ সালের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা অনুসরণ করছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।