নেত্রকোনার মদনে পূর্বশত্রুতার জের ধরে জেল থেকে বের হয়েই বাদী পক্ষের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদমশ্রী নওধার গ্রামের শান্ত মিয়া, আজমাতুল ইসলাম, রবি মিয়া, হাবি মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তাদের ভয়ে পরিবারগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বসতবাড়িতে নারী ও শিশুরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এক শিশুকে মারধরকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের শান্ত মিয়ার লোকজন ও লোকমান মিয়ার লোকজনের মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লোকমান মিয়া ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় শান্ত মিয়ার পক্ষের হাবি মিয়া কারাগারে ছিলেন।

জেল থেকে বের হওয়ার পর গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে লোকমান মিয়ার ভাই আক্কাস মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে শান্ত মিয়ার লোকজনের বিরুদ্ধে। উপজেলার পদমশ্রী নওধার গ্রামের জনৈক আহম্মদ আলীর বাড়ির সামনে কাঁচা সড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় লোকমান মিয়া গত ৫ আগস্ট মদন থানায় শান্ত মিয়াসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এমন অভিযোগের পর মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে পদমশ্রী নওধার গ্রামে গেলে লোকমান মিয়ার পরিবারের সদস্যরা গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান। তাদের শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, হাটবাজারে যেতে পারছে না। এমনকি বাড়ি থেকে বের হতেও নারীরা ভয় পাচ্ছেন বলে জানান তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদমশ্রী সকাল বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, লোকমান মিয়ার পরিবারের সদস্যরা শান্ত প্রকৃতির মানুষ। সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি দিন দিন বড় হচ্ছে। কয়েক দিন আগে লোকমান মিয়ার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন। শান্ত মিয়া ও হাবি মিয়ার লোকজনের ভয়ে লোকমান মিয়ার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কয়েক দিন ধরে বাড়িতে আসতে পারছেন না। এমনকি শিশুদেরও ভয়ে বিদ্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে না। নারীরা বাড়িতে থাকলেও আতঙ্কে অনেকটা গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অভিযুক্তদের ভয়ে এলাকার লোকজন প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলেও জানান তারা।

লোকমানের স্ত্রী বিউটি আক্তার বলেন, “আমরা নিরাপত্তা চাই। তাদের ভয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না। আমার স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যরা তাদের ভয়ে বাড়ির বাইরে রয়েছেন।”

তবে প্রতিপক্ষের অভিযুক্ত আনজু মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বেশি লোক আছে, এটা অস্বীকার করি না। আমরা এখন আপসের পক্ষে। কয়েক দিন আগে মারামারি হয়েছে। তারাও মার খেয়েছে, আমাদের মহিলারাও মার খেয়েছে।”

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন করিম বলেন, “আমার থানায় এসব চলবে না। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তাদের সন্ধ্যার মধ্যে থানায় আসতে বলেন।”