নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান আলোচনা সভা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, নৃত্য পরিবেশনা এবং গুণীজন সম্মাননার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ আয়োজনের পর্দা নামে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবির বিদ্রোহী চেতনা, সাম্য, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক আদর্শ তুলে ধরা।
তিন দিনের আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। রচনা, আবৃত্তি, নজরুলসংগীত ও নৃত্যসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও জীবনবোধ সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও জীবনদর্শনে সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং অসাম্প্রদায়িকতার যে চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে, তা বর্তমান সময়েও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সামাজিক সম্প্রীতি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রভাষক তোবারক হোসেন খোকন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক প্রধান শিক্ষক বীরেশ্বর চক্রবর্তী, সাবেক কালচারাল অফিসার সুলোচনা সাংমা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ধীরেশ পত্রনবীশ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহুরুল হকসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও আহমেদ সাদাত বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন; তিনি সাম্য, মানবতা, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রতীক। তাঁর জীবন ও সাহিত্য আজও সমাজকে ন্যায়, সমতা এবং মানবিক মূল্যবোধের পথে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বলেন, নজরুলের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবৃত্তিশিল্পের জন্য বীরেশ্বর চক্রবর্তী, সংগীতে সুলোচনা সাংমা ও স্বপ্না পত্রনবীশ, নাট্যকলায় আদিবাসী শিল্পী অপূর্ব ঘাগড়া এবং বাউল সংগীতে জাহেদ আলী মংলাকে ‘নজরুল সম্মাননা’ ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া তিন দিনের বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।