২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে অতিরিক্ত সময়ে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর জয়সূচক গোলে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে কেপ ভার্দে। তবে ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি।

প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্ডেসের কাটব্যাক থেকে লারোস দুয়ার্তে নিচু শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে রোমাঞ্চ
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই, ৯৩তম মিনিটে কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ গোল করে আবারও এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে।
কিন্তু হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। ১০৪তম মিনিটে ইয়ানিক সেমেদোর পাস থেকে সিডনি ক্যাব্রাল বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত শটে ২-২ সমতা ফেরান।
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই শেষ হাসি হাসে আর্জেন্টিনা। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে দলকে জয় এনে দেন।
মেসির রেকর্ডের রাত
এই ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২০-এ উন্নীত করেন লিওনেল মেসি। পাশাপাশি টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন তিনি।
বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ৩০তম ম্যাচ, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ২৭তমবারের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচে শুরুর একাদশে মাঠে নেমেও নতুন রেকর্ড গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
কেপ ভার্দের প্রশংসনীয় লড়াই
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলেই নকআউটে উঠে আসা কেপ ভার্দে পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। একাধিকবার সমতায় ফিরে তারা প্রমাণ করে, বড় দলের বিপক্ষেও সমানতালে লড়াই করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও সেট-পিস থেকেই জয় নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ফল
আর্জেন্টিনা ৩-২ কেপ ভার্দে (অতিরিক্ত সময়)
আর্জেন্টিনার গোল:
লিওনেল মেসি (২৯’)
লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (৯৩’)
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (১০৮’)
কেপ ভার্দের গোল:
লারোস দুয়ার্তে (৫৯’)
সিডনি ক্যাব্রাল (১০৪’)
