নরসিংদীতে সরকারি বিধি-বিধান ও নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযোগটি নরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দী এলাকায় অবস্থিত ফারুক আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে সম্প্রতি নতুন একাডেমিক ভবনে কার্যক্রম স্থানান্তরের পর পুরোনো দুটি ভবনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, একটি পুরোনো ভবন কোনো ধরনের সরকারি নিলাম বা লিখিত অনুমোদন ছাড়াই একজন ক্রেতার কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। পরে ভবনটি ভেঙে টিন, লোহার গ্রিল, দরজা ও জানালাসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।

এ সময় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে ক্রেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে মালামাল ফেলে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বা অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ভবন ভাঙা ও মালামাল অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী সাহা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণ করা হয়েছে। মালামাল বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসাইন জানান, ভবন ভাঙা বা মালামাল অপসারণের জন্য কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসমা জাহান সরকার বলেন, ঘটনাটি জানার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। সেটি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত ক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করা গনি মিয়া এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয়রা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।