কোনো প্রকার ছুটি না নিয়েই ৬ মাস ১৮ দিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেন না ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
এছাড়া অনুপস্থিত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানে না এসে বেতন উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষকরা অভিযোগ জানালেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা শিক্ষা অফিস।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঐ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে শিক্ষক হাজিরা খাতায় অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিনের উপস্থিতির কোন স্বাক্ষর নেই।
প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের সহকারী শিক্ষিক হোসনে আরা লাভলী বলেন, অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিন বিগত ১৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যায়ের কোন হিসেব দেননি। আমি গত বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। সেটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ল্যাব অপারেটর, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়া, সহকারী প্রধান, পাঠাগার ও কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ বাবদ বিশ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা অবৈধভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করেন। শুধু তাই নয় কার কাছ থেকে কতটাকা নিয়েছেন সেটি আবার প্রতিষ্ঠানের পেডে লিখিত আকারে সংরক্ষণ করেন। যা সকলের কাছেই রয়েছে। আমরা দাবি জানাই, সঠিক তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানে আরেক শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবক না থাকলে একটি প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে চলতে পারেনা। আমরা শিক্ষকরাই কোন রকম চালিয়ে নিচ্ছি। আমরা এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সে দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থতার অজুহাতে প্রতিষ্ঠানে আসেনা। আমি বলেছি যেহেতু সে প্রতিষ্ঠানে আসেন না তার বেতন বন্ধ করা হোক। বেতন বন্ধ আমার এখতিয়ারে নাই। অধ্যক্ষ এখলাছ উদ্দিন প্রতিষ্ঠানে না এসে অন্যায়ভাবে বেতন নিচ্ছে। তার বিষয়ে উপজেলার সকলেই অবগত আছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আজকেই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করে দিচ্ছি। এবং তার বেতন বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।