ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ৫ বছর বয়সী শিশু নিছা মনিকে গণধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার চারজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে ময়মনসিংহ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় দুই আসামি। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তনয় সাহার আদালতে আরও দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামিরা। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

চার আসামি হলেন- ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের দোলাল মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (১৯), তাহের উদ্দিনের ছেলে রাকিব মিয়া (১৯), রমজান আলীর ছেলে মারুফ মিয়া (১৯) ও একই গ্রামের সায়েম (১৭)। এরমধ্যে বুধবার মারুফ ও সায়েম স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং আরিফ ও রাকিব মঙ্গলবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

নিহত নিছা মনি টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজুমিয়ার মেয়ে।

শিশু নিছামনিকে কদম ফুল দেয়ার কথা বলে ডেকে নির্জনস্থানে নিয়ে এই চারজন মিলে ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় কংশ নদীতে ফেলে দেয়। গ্রেফতারকৃত চার আসামিদের স্বীকারোক্তিতে ওঠে আসে নৃশংসতার লোমহর্ষক চিত্র। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, কঠোর নিরাপত্তায় তাদের আদালতে আনা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে শিশু নিশামনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাদের সন্দেহ হলে দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা পর রাতে শিশুটির দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

নিহতের বাবা রাজু মিয়া বলেন, আমার নিষ্পাপ শিশুকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর নদীতে ভাসিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুধু আমার ছোট্ট শিশু হত্যার বিচার চাই। অভিযুক্তদের ফাঁসি চাই।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান বলেন, তদন্তে শিশুটির ওপর সংঘবদ্ধ নির্যাতন ও হত্যার গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্রুত আদালতে চার্জশিট জমা দেবে।