গাজীপুরের টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন গাছা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের প্রভাব বিস্তার, দালালি এবং ভূমিসেবা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সেবাপ্রার্থীদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হওয়া সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি ভূমি অফিসের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে জড়িত থেকে বিভিন্ন সেবা প্রদানের নামে মধ্যস্থতা করছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জহির উদ্দিন (জহির) নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি গত কয়েক বছর ধরে গাছা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করছেন এবং নামজারি, জমাভাগ, খারিজ ও ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছেন। এর আগে তিনি অন্য একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সেবাপ্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভূমি-সংক্রান্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে অনেককে অফিসের বাইরে একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন সেবার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের পরও অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাহেরুল হক বলেন, “কোনো উমেদার বা দালালের অফিসের ভেতরে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসার সুযোগ নেই। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গাছা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া বলেন, “জহির নামে কাউকে আমি চিনি না।” তবে স্থানীয় কয়েকজন সেবাপ্রার্থী দাবি করেছেন, জহির দীর্ঘদিন ধরে অফিস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জহির বলেন, “গাছা ভূমি অফিসের বাইরে আমার কোনো অফিস নেই। আমি ভূমি-সংক্রান্ত কিছু কাজ করি। শুধু গাছা নয়, বাসন, কাশিমপুর ও পূবাইল ভূমি অফিসেও খারিজসংক্রান্ত কাজ করে থাকি।”
পূর্বাচলে তার নামে কথিত প্লট থাকার বিষয়ে জহির বলেন, “ছোটবেলায় আমার এক আত্মীয় একটি প্লট আমার নামে করেছিলেন। পরে সেটি তার কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
ভূমি প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অফিসে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা গাছা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
