ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় নাহিয়ান রবিন (২৩) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত নাহিয়ান রবিন কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গফরগাঁও পৌরসভার শিলাসী এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে রবিনের জন্মদিন উপলক্ষে কয়েকজন বন্ধু মিলে পৌর শহরের পশু হাসপাতাল সড়ক এলাকার একটি দোকানে আয়োজন করেন। অনুষ্ঠান শেষে রবিন ও তার বন্ধু সাকিবুল হাসান মাসুম মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন।

মাসুমের দাবি, মাজার রোড এলাকায় পৌঁছালে মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার সময় মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে দুজনই মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। মাসুম সেখান থেকে সরে যেতে সক্ষম হলেও হামলাকারীরা রবিনকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয় লোকজন রবিনকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, রবিন অতীতে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে তার বোন ঝিনুক বেগম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না।

নিহতের বাবা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমার ছেলে আগে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। পূর্বের কোনো বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে শুনেছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।”

এ ঘটনায় গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে রাজিব নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির বাসা থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি এবং ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।