চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ইছেরদাড়ি খাল পুনঃখনন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।
শুক্রবার বিকেলে পরিদর্শনকালে তিনি খননকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য বলেন, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নওদা বন্ডবিলের সঙ্গে সংযুক্ত বেলগাছি-নাগদাহ হয়ে প্রবাহিত ইছেরদাড়ি খালটির পুনঃখনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি দীর্ঘদিন অবহেলা, পলি জমে ভরাট, আগাছা ও দখলের কারণে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ছিল।
তিনি বলেন, “খালটি পুনঃখননের মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসন করা। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি খননকাজে বাধা সৃষ্টি করে কিংবা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ তসরুপের চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এ সময় তিনি স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ নম্বর বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর দোয়ারপাড়া কবরস্থান জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা এবং ‘জমজম’ মোড়ের সেতুর পাশের অংশ পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ওই এলাকায় পুকুর ও বিভিন্ন স্থাপনার কারণে খালের স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ইছেরদাড়ি খাল পুনঃখননে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। খননকাজে খালের তলদেশের গড় প্রস্থ রাখা হবে ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা হবে ১ দশমিক ৫০ মিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি উপকৃত হবেন প্রায় ৫ হাজার ২০০ মানুষ।
এক সময় এলাকার পানির প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত খালটি প্রায় ৪৫ বছর পর নতুন করে পুনঃখননের আওতায় এসেছে। গত ১১ এপ্রিল পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আলমডাঙ্গা উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
