কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আগাম বর্ষণের পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর বোরো ধান। কাটার অপেক্ষায় থাকা পাকা ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক কৃষক। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খালের ওপর অবৈধ বাঁধ ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় এই বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নজরুল ,ইসলাম,হারুনসহ অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন,যে পানি মানুষের জীবন বাঁচায়, সেই পানিই আজ কেড়ে নিয়েছে শত শত কৃষকের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। সবুজে ঘেরা সোনালি ধানের মাঠ এখন পরিণত হয়েছে নিঃশব্দ জলরাশিতে। সেই পানির দিকে তাকিয়ে কৃষকের চোখে ভাসছে অসহায়ত্ব আর বুকভরা হাহাকার।
এমন চিত্র উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পানান বিল এলাকার আশপাশের ভুক্তভোগী কৃষকদের। মূলত: আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঘরে উঠত সোনালি ফসল কিন্তু বৈশাখের শুরুতেই টানা বর্ষণে শত শত একর পাকা ধান তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এক বছরের শ্রম, ঘাম আর আশা মুহূর্তেই ভেসে গেছে পানির স্রোতে ।
উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক চাঁন মিয়া ও আলামিনের ভাষ্যমতে, এবারে ক্ষতি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়,এই বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে মানুষের অবহেলাও। পানান বিলের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে পানি প্রবেশের পথ থাকলেও বের হওয়ার পথ বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বারই খালি খালের ওপর মাছ ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন অপরিকল্পিত বাঁধ ও ফিশারি। প্রভাবশালী মহলের এসব অবৈধ বাঁধের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এই পানান বিল ঘিরে রয়েছে ডাংরি, দক্ষিণ পানান, সৈয়দপুর, গাংগাটিয়া লাখুহাটিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ সদর ও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার অসংখ্য কৃষকের জমিও এই পানান বিলের আশপাশে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবারের ভারী বর্ষণে শুধু হোসেনপুর ও আশপাশের এলাকার পাঁচ শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলো মিলিয়ে ক্ষতির সংখ্যা অনেক বেশি হবে । তাই
এখন কৃষকদের চোখে শুধু অনিশ্চয়তা, কিভাবে তারা ঘুরে দাঁড়াবে, কীভাবে চলবে তাদের পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটাই দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, খালের ওপর নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৮ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।পানান বিল ও আশপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা বেশি হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সচেষ্ট রয়েছেন কৃষি বিভাগ।