বাংলাদেশে কৃষিখাতে সম্ভাবনাময় এক নাম হয়ে উঠেছে জি-নাইন কলা। অল্প সময়ে অধিক ফলন, রোগ-বালাই কম এবং কলা সংরক্ষণ করা সহজ হওয়ায় টিস্যু কালচারের মাধ্যমে তৈরি এই উন্নত জাতের কলা গাছ ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার নারায়ণপুর এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান প্রথমবারের মত টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত জি-নাইন কলা আবাদ করে সফল হয়েছেন।

জানা যায়, জি-নাইন জাতের কলা একটি জনপ্রিয় এবং উচ্চ ফলনশীল কলার প্রজাতি। এটি ক্যাভেন্ডিশ কলার একটি উন্নত জাত, যা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষের জন্য বেশ পরিচিত। জি-নাইন কলার ফলন অন্যান্য জাতের তুলনায় অনেক বেশি। এই জাতটি রোগ-বালাইয়ের বিরুদ্ধে বেশ প্রতিরোধী। জি-নাইন কলা খেতে সুস্বাদু এবং দেখতে আকর্ষণীয়। গাছের আকার মাঝারি হওয়ায় ঝড়-বাতাসে সহজে ভেঙ্গে পড়ে না। গাছ থেকে সংগ্রহ করার পর এই কলা সহজে নষ্ট হয় না।

নবীনগর পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান প্রায় এক বিঘার বেশি জমিতে ২২৫ টি জি-নাইন কলার চারা রোপণ করেন। বাগানের বয়স এক বছর হলেও প্রতিটি গাছে ফলন এসেছে আশানুরূপ। একেকটি কাদিতে কলা এসেছে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত।

কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, জি-নাইন কলা অতি অল্প সময়ে ফলন দেয়। কলার সংখ্যা অন্য জাত থেকে প্রায় দ্বিগুণ, গাছের উচ্চতা কম হওয়ায় সহজে হেলে পরেনা। টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত এই চারা রোগ-বালাই কম। প্রতি ছড়িতে ২৫০ থেকে ৩০০ কলা হচ্ছে। প্রতি ছড়ি পাইকারি হিসেবে ৬’শ টাকা থেকে ১’হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৮৫ হাজার টাকার কলা বিক্রি করা হয়েছে। আশা করি এক লাখ টাকার উপরে কলা বিক্রি করা যাবে।

এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আক্তারুজ্জামান জানান, এক বিঘা কলা বাগান করতে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। বছর শেষে বাগান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করা যায়। বাগানের চারা থেকে ফল ধরা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিদর্শন ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় জাতের তুলনায় ফলন বেশি হয়, রোগ বালাইও কম হয়। এখন অনেক কৃষকের মাঝে জি-নাইন কলা চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এই বাগান।

এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জি-নাইন জাতের কলা মূলত ক্যাভেনডিশ গ্রæপের অন্তর্গত। যার বৈজ্ঞানিক নাম গ্র্যান্ড নাইন। এটি ইসরায়েল ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। বাংলাদেশে এই জাতের কলা চাষ স¤প্রতি কৃষকদের কাছে পরিচিতি পাচ্ছে। এর উচ্চ ফলন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দ্রæত ফলদান ক্ষমতার কারণে কৃষকদের কাছে এই কলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এটি প্যানামা ডিজিজ, সিগাটোকাসহ নানা রোগ প্রতিরোধে সক্ষম, ফলে কম খরচে বেশি লাভ সম্ভব। গড়ে দশ থেকে এগারো মাসে ফলন দিতে সক্ষম। তাছাড়া এক বার রোপণ করলে দুই বছরে কমপক্ষে তিনবার ফলন সংগ্রহ করা সম্ভব।

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে কলা আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে জি-নাইন কলা আবাদ হচ্ছে প্রায় এক হেক্টর জমিতে। সকল বাগানে এই জাতের কলা বানিজ্যিক ভাবে আবাদ করলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তবে এজন্য সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, মানসম্পন্ন চারা সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।