বাংলাদেশের কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সমাধানের ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (CIMMYT) সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কানাডার কৃষি উদ্ভাবন ত্বরান্বিতকারী সংস্থা বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডা (Bioenterprise Canada)। এ উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলাদেশের স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষিপ্রযুক্তির প্রসার, কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষির সক্ষমতা বাড়ানো।
এ প্রেক্ষাপটে কানাডার সেক্রেটারি অব স্টেট রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে সিআইএমএমওয়াইটি পরিদর্শন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকায় কানাডার হাইকমিশনের প্রকাশিত এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা নেয়। কৃষিতে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে কৃষকদের সক্ষমতা বাড়ানো যায়, তা ছিল এ সফরের অন্যতম গুরুত্বের বিষয়।
কৃষিপ্রযুক্তির প্রসারে কানাডা-বাংলাদেশ সহযোগিতা
প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডা ও সিমিট বাংলাদেশের কৃষি খাতের উপযোগী উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও সমাধানের ব্যবহার সম্প্রসারণে কাজ করবে। এ অংশীদারত্বে কানাডা ও বাংলাদেশের কৃষি, গবেষণা এবং উদ্ভাবন সংশ্লিষ্ট দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডা মূলত কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া, উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে কাজ করে। অন্যদিকে, সিমিট ভুট্টা ও গমসহ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যের উন্নত জাত উদ্ভাবন, কৃষি গবেষণা এবং জলবায়ু সহনশীল উৎপাদনব্যবস্থা বিকাশে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করা একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ সমাধানের প্রয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় কৃষকের চাহিদা, উৎপাদনব্যবস্থা এবং জলবায়ুগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তি নির্বাচন ও প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
খাদ্যনিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীল কৃষির সম্ভাবনা
বাংলাদেশের কৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি, গবেষণাভিত্তিক পরামর্শ এবং স্থানীয় পরিস্থিতির উপযোগী উদ্ভাবনী সমাধান কৃষকদের উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও সহনশীল করে তুলতে সহায়তা করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে কানাডীয় ও বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রযুক্তির উপযোগিতা যাচাই এবং কৃষকদের কাছে উদ্ভাবন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি কৃষি খাতে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকার উন্নয়নেও এ ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে অংশীদারত্বের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে কোন প্রযুক্তিগুলো বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হবে, সেগুলোর ব্যয় ও কার্যকারিতা কতটা উপযোগী হবে এবং কৃষকেরা সেগুলো কতটা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন—এসব বিষয়ের ওপর।
কানাডার হাইকমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো কানাডীয় ও বাংলাদেশি কৃষি-দক্ষতাকে একত্র করে স্থানীয়ভাবে উপযোগী উদ্ভাবনের ব্যবহার বাড়ানো এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা জোরদার করা।
বাংলাদেশের কৃষি খাতে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ধারণে অংশীদারত্বের বাস্তবায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ এবং কৃষকদের অংশগ্রহণের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
